ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আমের জিআই চায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আমের জিআই চায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে আশ্বিনা ও ল্যাংড়া আমের স্বীকৃতি দাবি করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আম দুটিকে স্বীকৃতি দিতে জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খানকে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আহসান হাবিব।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ক্ষিরশাপাত, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আমকে জিআই পণ্য স্বীকৃতি দিতে জেলার আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র আবেদন করা হয়। ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ভৌগলিক নিদর্শক হিসেবে মনোনয়ন পাই ক্ষিরশাপাত আম। কিন্তু এখনও ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাইনি।

জেলার আম চাষিরা জানান, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আমকে ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) মনোনয়ন দিলে এ আম বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনীতিতে আরো ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

কৃষি গবেষণার তথ্য মতে, ল্যাংড়া আমের বোটা চিকন। আঁটি পাতলা। এ আমের মিষ্টতার পরিমাণ গড়ে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আমটির ভক্ষণযোগ্য অংশ ৭৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে আশ্বিনা আমের গাছে মুকুল আসার প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস পর পাকে। আমটির বোটা শক্ত আর নিচের অংশ চোঁচালো। মিষ্টতার পরিমাণ প্রায় গড়ে ২০ শতাংশ। আশ্বিনা আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৭৭ শতাংশ।

ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদন হয়। জেলায় ৫ লাখ মানুষ আম উৎপাদন ও এই সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত। আম এ জেলার অর্থনীতিতে জোরালো ভূমিকা রাখে। ক্ষিরশাপাত আম একক জেলা হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু এখনও ল্যাংড়া আর আশ্বিনা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাইনি। এ আম দুটো জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলে বিশ্ববাজারে এ আম রপ্তানি আরো সহজ হবে। এখান থেকে আসা বৈদেশিক অর্থ দেশের অর্থনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল হুদা অলক বলেন, ‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আম দিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মানুষ চেনে। আশ্বিনা ও ল্যাংড়া আমকে জিআই স্বীকৃতি দিলে বাণিজ্যিকভাবে অর্থনীতিতে এ আম দুটি অবদান রাখবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের মৌসুমে ৯ হাজার ১৯৮ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৬৫টি গাছে আশ্বিনা আম উৎপাদন হয়েছে। আর ৩ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০টি গাছে ল্যাংড়া আম উৎপাদন হয়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান বলেন, ‘ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলে জেলার নাম উজ্জল হবে। এ বিষয়ে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) সঙ্গে কথা বলবো।’

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.