মন্দার মধ্যে হোম অফিসের কর্মীর বেতন কোটির বেশি!

মন্দার মধ্যে হোম অফিসের কর্মীর বেতন কোটির বেশি!

বিশ্বজুড়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী ছাঁটাই করছে। নামকরা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগও বন্ধ করে দিয়েছে—এমন শিরোনাম এখন প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। এমন খবর দেখে শুরুতেই হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ চাকরি খুঁজছেন, চাকরিও পাচ্ছেন। আবার ছোট হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের বেতনে ঘরে বসে কাজের (হোম অফিস) জন্য কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রত্যাশী ও চাকরিদাতাদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান জিপরিক্রুটারের প্রধান অর্থনীতিবিদ জুলিয়া পোলাক বলেন, শ্রম বিভাগের সবশেষ চাকরির প্রতিবেদন অনুসারে মন্দার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নানা ক্ষেত্রে চাকরির বাজার শক্তিশালী অবস্থানে আছে। করোনা মহামারির আগ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চাকরিদাতারা ৬০ শতাংশ কর্মী বেশি নিয়োগ দিচ্ছেন।

চাকরির পোর্টাল ল্যাডারসের নতুন গবেষণায় দেখা যায়, ঘরে বসে কাজের ক্ষেত্র এখন সমৃদ্ধ হচ্ছে। প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যসেবা খাতসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এখন ঘরে বসে কাজ করার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। আর এসব কর্মীদের ছয় অঙ্কের বেতনও দেওয়া হচ্ছে।

ঘরে বসে কাজের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের সর্বোচ্চ বেতন দেয় কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য ল্যাডারস তাদের ওয়েবসাইটে গত ৩১ আগস্ট থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত শীর্ষ ২০টি পেশা চিহ্নিত করেছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি দেখেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা দিয়ে কর্মীদের বছরে ১ কোটি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫০ টাকার (এক লাখ মার্কিন ডলার) বেশি বেতন দিয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান কুবিয়েন্ট ও গ্লিয়াসেল টেকনোলজিস এখন ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদে বছরে ১,০২,৬৯,৩৫০ থেকে ১,৫৪,৪৫,৪২৫ টাকা (১০০,০০০-১৫০,০০০ মার্কিন ডলার) বেতন দিয়ে থাকে। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান টুরিং ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্টেপ্রস কনসালটিং ডেটা ইঞ্জিনিয়ার পদেও বছরে সমপরিমাণ বেতন দিয়ে থাকে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাকশনেট প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে বছরে ১,৫৪,৪৫,৪২৫ থেকে ২,০৫,৯৩,৯০০ টাকা (১৫০,০০০-২০০,০০০ মার্কিন ডলার) বেতন দেয়। আবার একই পদে জাপানের বহুজাতিক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও সফটওয়্যার কোম্পানি ইয়োকোগাওয়া ইলেকট্রিক বছরে ১,০২,৬৯,৩৫০ থেকে ১,৫৪,৪৫,৪২৫ টাকা (১০০,০০০-১৫০,০০০ মার্কিন ডলার) বেতন দিয়ে থাকে।

মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্কেলড অ্যাজাইল অ্যাকাউন্টস এক্সিকিউটিভ পদে বছরে ১,৫৪,৪৫,৪২৫ থেকে ২,০৫,৯৩,৯০০ টাকা (১৫০,০০০-২০০,০০০ মার্কিন ডলার) বেতন দেয় আবার কানাডার ওয়েব অ্যাকসেসিবিলিটি প্ল্যাটফর্ম এসেনশিয়াল অ্যাকসেসিবিলিটি একই পদে একটু কম অর্থাৎ বছরে ১,০২,৬৯,৩৫০ থেকে ১,৫৪,৪৫,৪২৫ টাকা (১০০,০০০-১৫০,০০০ মার্কিন ডলার) বেতন দেয়।

অ্যাসপিরা ও ডিএনএসফিল্টার নামের প্রতিষ্ঠান দুটি প্রোডাক্ট ম্যানেজার পদে বছরে ১,০২,৬৯,৩৫০ থেকে ১,৫৪,৪৫,৪২৫ টাকা (১০০,০০০-১৫০,০০০ মার্কিন ডলার) বেতন দিয়ে থাকে।

তবে এটাও ধারণা করা হচ্ছে যে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ কমে যেতে পারে। প্রফেশনালদের জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক লিংকডইন প্রায় তিন হাজার নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর জরিপ চালিয়েছে। ওই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, অর্থনৈতিক মন্দা বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করতে পারে। করোনা মহামারিকালীন যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, সেসব আবার নতুন করে ফিরে আসতে পারে।

আটলান্টার মানবসম্পদ বিষয়ে পরামর্শক লাশন ডেভিস বলেন, আসছে মাসগুলোয় এমন একটা জোয়ার চলে আসবে। অর্থনীতি মন্থর হচ্ছে, এর অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী ধরে রাখতে ও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরও সৃজনশীল হতে হবে। অনেকে মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ বন্ধ করে দিলে বা এসব কর্মী ছাঁটাই করে দিলে খরচ কমে আসবে।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *