আন্তক্যাডার বৈষম্য না কমালে বিসিএসে প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের পেশাবদল বাড়বে

আন্তক্যাডার বৈষম্য না কমালে বিসিএসে প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের পেশাবদল বাড়বে

প্রকৌশলী ও চিকিৎসকেরা বিসিএসে তাঁদের জন্য নির্ধারিত কারিগরি পেশার ক্যাডার ছেড়ে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। সবশেষ পাঁচটি বিসিএস পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ তিন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ৯৮০ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৮৭ জন প্রকৌশলী ও চিকিৎসক। এ নিয়ে প্রথম আলোতে আজ ‘প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের পেশাবদল’ নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর প্রথম আলোর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে পাঠকেরা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ বলছেন, আন্তক্যাডার বৈষম্য না কমালে বিসিএসে প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের পেশাবদল বাড়বে। কারও মন্তব্য দেশে আমলা ও পুলিশ ছাড়া অন্য পেশাজীবীরা প্রাপ্য সম্মান পান না বলেই এ অবস্থা।

প্রথম আলো অনলাইনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পাঠক লিখেছেন, ‘অধিকতর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, আর্থিক সুবিধা এবং দ্রুত পদোন্নতির নিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কারিগরি মেধাবীরা অকারিগরি ক্যাডারে যেতে প্রলুব্ধ হচ্ছেন। মনে করুন, আমি অষ্টম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে কারিগরি পেশায় যোগ দিয়ে বর্তমানে উপসচিবের সমপদে কর্মরত, আর আমার অনুজ আর্টস থেকে পাস করে ১১তম বিসিএস দিয়ে ১৯৯৩ সালে যোগদান করে পূর্ণ সচিব পদে আসীন। প্রশাসন ক্যাডারে পদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি নিয়ে নিম্ন পদের কাজ করেন আর আমরা পদ থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতিবঞ্চিত হয়ে নিম্ন পদে থেকে উচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করি।’

ইমতিয়াজ ইউনুস নামের অন্য এক পাঠক প্রথম আলো অনলাইনে এ–সংক্রান্ত সংবাদের নিচে লিখেছেন, টেকনিক্যাল ক্যাডারদের সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি করলে তাঁরা আর জেনারেলে আসতে চাইবেন না। পালিতে পড়া একটা ছেলে যদি একজন চিকিৎসক আর ইঞ্জিনিয়ারের ওপর ছুরি ঘুরান, তবে ক্যাডার চেঞ্জ করতে তাঁরা বাধ্য হবেনই। মূলকথা, ক্ষমতার বৈষম্য না থাকলে সবকিছুই সুন্দরভাবে চলবে।

আরিফুল ইসলাম নামের একজন পাঠক ফেসবুকে এ নিউজের নিচে মন্তব্য করেছেন, প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের বাস্তবে কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে না। সুযোগ–সুবিধা ও পদোন্নতিতে সমস্যা রয়েছে। যে যোগ্যতা অর্জন করবেন, সে সেখানে চাকরি করবেন। বাংলাদেশে যে বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন, সে বিষয়ে খুব কম মানুষই চাকরি করেন। বর্তমানে ব্যাংকের চাকরির ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ।

ফেসবুকে আরাফাত রহমান নামের অন্য একজন লিখেছেন, বিসিএসে প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের পেশাবদলের প্রধান কারণ আন্তক্যাডার বৈষম্য। আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর না করা পর্যন্ত প্রকৌশলী-চিকিৎসকদের পেশাবদলের হার ক্রমেই বাড়বে।

মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ফেসবুকে লিখেছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রাষ্ট্র যেভাবে চাচ্ছে, রেজাল্টও তাই হচ্ছে। টেকনিক্যাল ক্যাডার কর্মক্ষেত্রে পরাধীন। বাস্তবে নন-টেকনিক্যাল ক্যাডারই নির্ধারণ করে রোগী কয় বেলা ওষুধ পাবে, বিল্ডিং তৈরিতে কি উপকরণ কতটুকু লাগবে; গরু, মুরগি, মাছ কিংবা গাছ কীভাবে বেড়ে উঠবে!

মোশাররফ হোসেনের মন্তব্য, যেখানে সুযোগ–সুবিধা বেশি, সবাই সেখানেই যাবে। এটাই স্বাভাবিক। সালেহ উদ্দিন আকবর বলছেন, মেধাই হবে যোগ্যতার মাপকাঠি। যে যার পছন্দ অনুযায়ী চাকরি করবেন, কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

হিমাদ্রী প্রসাদ রায় লিখেছেন, এটাই স্বাভাবিক। একজন মেধাবী সব সময়ই ভালো জায়গায় যেতে চাইবেন। একজন ডাক্তারকে তাঁর পেশায় কোনো মূল্যায়ন ও সুযোগ–সুবিধা দেওয়া হয় না। যেটা পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডারের জন্য মামুলি ব্যাপার। তাহলে মেধাবীরা কেন কম মূল্যায়নের জায়গায় থাকবেন। ঠিক একই কারণে বাংলাদেশে ভালো শিক্ষক ও বিজ্ঞানী পাওয়া যায় না।

শাক্কুর আলম লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে আমলা ও পুলিশ ছাড়া অন্য পেশাজীবীদের তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয় না। তাই এই অবস্থা।’

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.